• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.

পৃথিবীর মাত্র ৩ শতাংশ এখনো অক্ষত!


নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২১, ০৩:৩৯ পিএম পৃথিবীর মাত্র ৩ শতাংশ এখনো অক্ষত!

পৃথিবীর মাত্র ৩ শতাংশ জায়গার বাস্তুসংস্থান এখনো অক্ষত আছে। এ তিন শতাংশ স্থানে এখনো প্রাণ আর প্রকৃতি অক্ষত অবস্থায় আছে। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।

‘ফ্রন্টইয়ার্স ইন ফরেস্টস অ্যান্ড গ্লোবাল চেঞ্জ' জার্নালে প্রকাশিত এ গবেষণায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, মানুষের কারণে পৃথিবীর প্রাণ ও প্রকৃতি কীভাবে সৃষ্টির শুরুর অবস্থা থেকে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে।

কীভাবে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বাস্তুসংস্থান একটু একটু করে ধ্বংস হচ্ছে। গবেষণা বলছে, পৃথিবীপৃষ্ঠের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ এখনো তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে মানুষ।

এই এলাকাগুলো হলো, পূর্ব সাইবেরিয়া, উত্তর কানাডা, আমাজনের কিছু অংশ, কঙ্গো বেসিনের উপকূলীয় বনাঞ্চল আর সাহারা মরুভূমি। ব্রিটিশ কেমব্রিজের সম্পৃক্ততায় করা এ গবেষণা বলছে, এ অঞ্চলগুলোতে জীববৈচিত্র্য আর প্রকৃতির তুলনামূলক কম ক্ষতি করেছে মানুষ। 

এ অঞ্চলের বাস্তুসংস্থান স্বাভাবিক আছে, কারণ এসব স্থানে প্রাণী আর উদ্ভিদের ভারসাম্য আছে, প্রকৃতির ভারসাম্য আছে। এ অঞ্চলগুলোতে এখনো চমৎকারভাবে বাস্তুসংস্থানের সমতা আছে।

গবেষণা বলছে, পৃথিবীর ২ দশমিক ৮ শতাংশ ভূপৃষ্ঠ, ১০ হাজার স্কয়ার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আছে, যেখানে মানুষের পদচিহ্ন খুব কম পড়েছে। এখানে কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়নি কিংবা বিলুপ্তির পথে পৌঁছায়নি। এখানকার ১১ শতাংশ এলাকাই এখনো সংরক্ষিত অবস্থায় আছে। 

তবে এই গবেষণায় নেই অ্যান্টার্কটিকা। যদিও মানুষের কারণে দুর্গম এই মহাদেশের প্রকৃতিও বৈরি হতে শুরু করেছে। অ্যান্টার্কটিকার ওপর পৃথিবীর বাস্তুসংস্থানের অনেকাংশই নির্ভর করে।

জানুয়ারিতেই বিজ্ঞানীরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন আর জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তির কারণে পুরো পৃথিবীই ঝুঁকির মুখে আছে। ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার' এর গবেষণা বলছে, মাত্র ৪ দশকে পৃথিবীর বন্যপ্রাণী ৬৮ শতাংশে নেমে এসেছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ষষ্ঠবারের মতো বিলুপ্তির পথে হাঁটছে পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য, এর বাইরে নয় মানুষ। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ধ্বংস আর বিলুপ্তির অন্যতম প্রধান কারণই মানুষ।

খুব সীমিত জায়গাই এখনো মানুষের নজরে আসেনি, যেখানে মানুষ তেল, গ্যাসক্ষেত্র বানাতে পারেনি বা কয়লা খনন কাজ শুরু করতে পারেনি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈচিত্র্য হারানো অনেক স্থানের বাস্তুসংস্থান আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব, যদি কিছু প্রাণীর অস্তিত্ব আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া যায়। এমন পাঁচটি প্রাণী বাস্তুসংস্থান স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। বন্য হাতি আর জিরাফ, ফনা আর ফ্লোরা বাস্তুসংস্থান স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে।

পূর্ব রাশিয়া, উত্তর কানাডা, আলাস্কা, আমাজন বেসিন, সাহারা মরুভূমি আর কঙ্গো বেসিনে জীববৈচিত্র্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

বিশ্বের ৫০টি দেশ অঙ্গীকার করেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ অংশে প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন তারা।