• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৪ মে, ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.
এবি পার্টির প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অভিমত

‍‍`ফ্যাসিবাদী সরকারকে সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করতে হবে‍‍`


নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার প্রকাশিত: মে ২, ২০২১, ০৪:১৪ পিএম ‍‍`ফ্যাসিবাদী সরকারকে সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করতে হবে‍‍`
ছবি : সংগৃহীত

এবি পার্টির প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে দলের আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেছেন, 'যখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে সাংবিধানিক রাজনীতির সকল পথ রুদ্ধ করা হয়েছে, নির্বাচনের নামে আগের রাতে ভোট ডাকাতি করে জনগনের সাথে প্রতারনা ও তামাশার উৎসব  চালু করা হয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দমন পীড়নের মাধ্যমে ভীত সন্ত্রস্থ ও রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে, যখন রাজনীতি নিয়ে মানুষের মাঝে ভয়, শংকা ও চরম অনীহা বিরাজমান তখন স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে দেশ, জাতি ও নতুন প্রজন্মকে কল্যাণরাষ্ট্র ও রাজনীতির নতুন অভিমুখ দেখানোর দু:সাহসিক লক্ষ্যেই এবি পার্টি তার আত্মপ্রকাশের ঘোষনা দেয়।'

কভিড পরিস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানে এবি পার্টির জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভার্চুয়াল বক্তব্য রাখেন- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া, সাবেক ডাকসু ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের প্রধান মাহমুদুর রহমান মান্না, রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী, কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতিক, সাবেক এমপি নিলুফার চৌধুরী মনি, সাবেক উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার মিলন, লেখক ও কলামিস্ট শ্রী গৌতম দাস, ধর্মীয় ব্যাক্তিত্ব  মাওলানা ড. মোঃ নজরুল ইসলাম আল মারুফ, বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু ও শিক্ষাবিদ ড. সুকোমল বড়ুয়া প্রমূখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এই অন্যায়, অবিচারকারী, ফ্যাসিস্ট সরকারের কি এতগুলি বুলেট আছে যে আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে! কিছু লোক মারতে পারবে, আমাদের কিছু লোকের আত্মার ত্যাগে যদি দেশে পরিবর্তন হয় এরচেয়ে বড় সফলতা আর কি হতে পারে?  জয় আমাদের হবেই। আমাদের সাহস লাগবে, এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করতে হবে। 

এবি পার্টির প্রধান উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের যে প্রতিশ্রুতি স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রে দেওয়া হয়েছে, জনগণের জন্য তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের মাধ্যমে এবি পার্টির যাত্রা শুরু। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম ইসলামে এই তিনটি অধিকারের সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।

বিশিস্ট রাস্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, আমার এবি পার্টিকে দেখে মনে হয়েছে যে তার নরডিক দেশগুলোর আদলে দেশকে একটা উদার গনতান্ত্রিক রাস্ট্রে পরিনত করতে চায় এবং এই উদ্যোগ যদি সফল হয় তাহলে তা এদেশের জন্য এক যুগান্তকারী ঘটনা হবে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, আমার বাংলাদেশ পার্টির এক বছর পূর্তি এটা আমাদের দেশের জন্য খবুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার।

বিগত পঞ্চাশ বছরে যে রাজনীতির ধারা দেখা গিয়েছে, এতে জনগণ অনেকটা আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এই নতুন পার্টির আগমনে একটি ঘাটতি পূরণ হবে। এই সরকারের অধীনে গনতান্ত্রিক সংস্কৃতির অবক্ষয় হয়েছে। উদার ও গনতান্ত্রিক একটা কালচার বাংলাদেশে ফেরত আনতে হবে। 

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমি এবি পার্টির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর খবর শুনে আনন্দিত। এবি পার্টি গত এক বছর লাগাতার কাজ করেছে। দেশের আপামর মানুষের জন্য, গনতন্ত্র,  তাদের মৌলিক অধিকার এক কথায় মানুষের কল্যানের স্ব-পক্ষে তারা লড়াই করেছে। 

কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক বলেন, আমি এবি পার্টির কাছে আবেদন করবো তরুনদের ধরে রাখুন, তরুন পেশাজীবিদের রাজনীতিমনস্ক করুন, তাদেরকে রাজপথে আনুন, কারণ তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

ব্রিফিংয়ে দলের সসস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জুর সঞ্চালনায় ব্রিফিংয়ে আরো বক্তব্য দেন যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওহাব মিনার, এডভোকেট তাজুল ইসলাম, সুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার যুবায়ের আহমেদ ভুইয়াসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।