• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৪ মে, ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.

অখিল চন্দ্রের কাঁঠাল খাওয়া, লোটা এবং ট্রেনের শৌচাগার 


রাফিউজ্জামান লাবীব | বাংলাবাজার প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২১, ০৫:৪৫ পিএম অখিল চন্দ্রের কাঁঠাল খাওয়া, লোটা এবং ট্রেনের শৌচাগার 
ছবি : সংগৃহীত

দেশে-বিদেশে কোথাও যেতে হলে আমরা যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিজেদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো বিবেচনায় এনে যানবাহন নির্ধারণ করি।যানবাহন নির্ধারণের সময় পছন্দের শীর্ষে নিশ্চয়ই থাকবে ট্রেন।

কেননা,এখানে আপনি খেতে পারছেন,হালকা হাঁটাহাটিও করতে পারছেন,নামাজ পড়তে পারছেন,শৌচ কাজও সারতে পারছেন।এর বাইরে আরো নানা সুবিধা রয়েছে ট্রেনে যাতায়াতে।

অনেকেই ট্রেনে যাতায়াতকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন শৌচাগার থাকার কারণে।

যখনই নিম্নচাপ আসবে তখনই ট্রেনের মধ্যেই কাজটি সারতে পারবেন বিধায় ট্রেনে যাতায়াতের এত কদর।

কিন্তু,কখনও আমরা এটা ভেবে দেখেছি যে ট্রেনে শৌচাগার ট্রেন আবিষ্কারের সময়ই ছিল না-কি পরবর্তী কোনো সময়ে সংযোজন করা হয়েছে?

প্রবাদে আছে,“প্রয়োজন উদ্ভাবনের প্রসূতি।” বর্তমানে ট্রেনে শৌচাগারের যে সুবিধাটা আমরা উপভোগ করতে পারছি ট্রেন আবিষ্কারের শুরুতে সেরকম কিছু ছিল না।

শুধু যাত্রী বা মালামাল পরিবহন করা হতো। ১৮৫৩ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে ট্রেন আসার ৫৬ বছর পরে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে একজন বাঙালির কল্যাণে ট্রেনে শৌচাগার সংযোজন করা হয়। আর, বর্তমানে আমরা এই সুবিধাটা ভোগ করছি।

তাহলে চলুন জেনে আসা যাক প্রকৃত ঘটনাটি কী ছিল-ঘটনাটি ঘটে ১৯০৯ সালে।অখিল চন্দ্র সেন নামক ভদ্রলোকটি একদিন বেশি পরিমাণে কাঁঠাল খেয়ে ট্রেনে যাওয়ার সময় শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

ট্রেনের মধ্যে শৌচাগারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে তিনি স্টেশনের শৌচাগারে যান।

শৌচাগারে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার হুইসেল শুনতে পান।মহাবিপদে মুখে তখন অখিল চন্দ্র সেন!

কোনো রকমে কাজ সেরে সেখান থেকে বেরিয়ে ছুটলেন ট্রেন ধরতে। ট্রেন থামানাের জন্য হাত তুলে ট্রেনের গার্ডকে ইশারা করেও ট্রেনটাকে থামাতে পারেননি।

একহাতে লােটা অন্যহাতে ধুতি সামলে ছুটতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যান লােকভর্তি প্ল্যাটফর্মের ওপর। চোখের সামনে দিয়ে ট্রেন বেরিয়ে যায়!

ক্ষুব্ধ, অপমানিত হয়ে সেবারের মতো যাত্রা না করে তিনি স্টেশন ত্যাগ করেন। কয়েকদিন পর বিস্তারিত ঘটনা জানিয়ে ভুলভাল ইংরেজিতে একটি চিঠি লেখেন সাহেবগঞ্জ ডিভিশনাল রেলওয়ে অফিসে।

চিঠিতে তিনি শৌচকাজ করতে গিয়ে ট্রেন ধরতে না পারার কথা এভাবেই তুলে ধরেন,
“ ডিয়ার স্যার,
আই এম এরাইভ বাই প্যাসেঞ্জার ট্রেন আহমেদপুর স্টেশন এন্ড মাই বেলি ইজ টু মাচ।সুয়েলিং উইথ য্যাকফ্রুট।আই এম দেয়ারফোর,ওয়েন্ট টু প্রাইভেসি।

জাস্ট আই ডুয়িং দ্য নুয়িস্যন্স দ্যাট গার্ড মেকিং হুয়িটস্যাল ব্লো ফর ট্রেন টু গো অফ এন্ড আই এম রানিং উইথ লোটাহ ইন ওয়ান হ্যান্ড ধুতি ইন দ্য নেক্সট হোয়েন আই এম ফল ওভার এন্ড এক্সপোজ অল  সকিং টু ম্যান এন্ড ফিম্যাল ওম্যান অন প্লাটফর্ম।

ইয়োর ফেইথফুলি সার্ভেন্ট
ওখিল সিএইচ  সেন”

এমনকি জনস্বার্থে ওই গার্ডের কাছ থেকে বড়সড় জরিমানা আদায়ের কথা বলেন, না হলে সংবাদপত্রে সবকথা ফাঁস করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।

তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। যার ফলে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় রেলওয়ে চালু হওয়ার বহু বছর পরে ট্রেনের মধ্যে টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে অখিল চন্দ্র সেনের পাঠানো সেই চিঠিটি স্মারক হিসেবে দিল্লীর রেল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে । জাস্ট আই ডুয়িং দ্য নুয়িস্যন্স।