• ঢাকা
  • রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.

বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধস্থলে পরিতৃপ্ত এক ভ্রমণ


শরিফ ইসলাম | বাংলাবাজার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১, ০৬:৩৬ পিএম বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধস্থলে পরিতৃপ্ত এক ভ্রমণ
ছবি: বাংলাবাজার

বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান দেওয়ার জন্য স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তার ডাকে সাড়া দিয়ে আপামর জনসাধারণ থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তের মানুষ দেশের জন্য  জীবন দিয়ে লড়াই করে এক টুকরো সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।

বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন দেশটাকে সাজাবেন আপন মনে গড়ে তুলবেন দূর্ণীতি মুক্তভাবে। যেখানে শ্রমিক কৃষক তার ন্যায্য সম্মানটুকু পাবেন।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুর্নগঠনের কাজে হাত দেন।

মাত্র ১০ মাসের মধ্যে সংবিধান প্রণয়ন, লাখ লাখ বাস্তুচ্যূত মানুষকে পুর্নবাসন, ১৩০টি দেশের স্বীকৃতি লাভসহ নানান কিছু অর্জন হয় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে।

অথচ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার স্বপরিবারে হত্যা করার মাধ্যমে সবকিছু স্তব্ধ করে দেওয়া হয়।

লে:কর্নেল এম এ হামিদ গণমাধ্যমে জানান,"সিঁড়িতেই দেখি পড়ে আছেন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর পরনে ছিল সাদা পাঞ্জাবি এবং চেক লুঙ্গি। পাশে পড়ে আছে তাঁর ভাঙ্গা চশমা।

তাঁর দেহ সিঁড়ির ওপরে এমনভাবে পড়েছিল যেন মনে হচ্ছিল সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গেছেন। কারণ তাঁর মুখে কোনো রকমের আঘাতের চিহ্ন ছিল না। চেহারা ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তাঁর বুকের অংশটুকু ছিল ভীষণভাবে রক্তাক্ত। মনে হলো ব্রাস লেগেছে"।

বঙ্গবন্ধুর স্ব পরিবারের বাকি সদস্যদের লাশ গুলো বনানীর কবর স্থানে দাফন করা হয়।

গণমাধ্যম থেকে জানা যায়, সাপ্লাই ব্যাটালিয়নের সৈনিকরা একটানা কাজ করে ১৮টি কবর খুঁড়ে রেখেছিল। ভোর হওয়ার আগেই লাশগুলা দাফন করা হয়। বঙ্গভবন থেকে মেসেজ পাঠানো হয়েছিল সেইসময় শেখ সাহেবের ডেডবডি টুঙ্গিপাড়া পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

একটি এয়ারফোর্স হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৬ই অগাস্ট সন্ধ্যার আগে আগে তাঁর দাফন কাজ সম্পন্ন হয় গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলায়।

পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর করব ঘিরেই গড়ে ওঠে সমাধিসৌধ। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ছুটে যান সেখানে। কবর জিয়ারতের পাশাপাশি মনোরম দৃশ্যও ভালো লাগে ভ্রমণপিপাসুদের।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তদানীন্তন ভারতীয় উপমহাদেশের বঙ্গ প্রদেশের ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গোপালগঞ্জ শহর থেকে ৩০-৩৫ মিনিটের পথ টুঙ্গিপাড়া। দেশের যে কোনো জায়গা থেকে গোপালগঞ্জ যেতে হবে।

গোপালগঞ্জ থেকে আধা ঘণ্টার মধ্যে টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে।

শেষে পাটগাতী থেকে ব্যাটারিচালিত বাহনে সমাধিসৌধে পৌঁছতে পারবেন। 

করোনা মহামারি কারনে  সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত প্রবেশ দ্বার খোলা রাখা হয়েছে তবে দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষদের জন্য বিবেচনা করেন গেটে দায়িত্বরত সামরিক বাহিনীর সদস্যরা।

সমাধিসৌধবঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে ঢুকতে কোনো প্রবেশমূল্য দিতে হয় না।  লাল সিরামিক ইট আর সাদা-কালো মার্বেল পাথর দিয়ে নির্মিত সৌধ। কমপ্লেক্সের সামনে, দুই পাশের উদ্যান পেরোনোর পরই বঙ্গবন্ধুর কবর। পাশে তাঁর বাবা ও মায়ের কবর।

এই তিন কবর নিয়েই গড়ে উঠেছে গোলাকার গম্বুজবিশিষ্ট মূল সমাধিসৌধ।

সমাধিসৌধের ওপরের দেয়ালে জাফরি কাটা। ওপরে থাকা কারুকাজ করা কাচের ভেতর দিয়েও আলো ছড়িয়ে পড়ে সমাধিতে।

চারদিকে কালো, মাঝখানে সাদা মার্বেল পাথর দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কবর বাঁধানো। ওপরের অংশ ফাঁকা।
এই কমপ্লেক্সে রয়েছে একটি পাঠাগার ও জাদুঘর। পাঠাগারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা বইসহ প্রায় ছয় হাজার বই রয়েছে।

রয়েছে গবেষণাকেন্দ্র, প্রদর্শনী কেন্দ্র, উন্মুক্ত মঞ্চ, পাবলিক প্লাজা, প্রশাসনিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়া, বকুলতলা চত্বর ও স্যুভেনির কর্নার।

প্রদর্শনী কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের নানা পর্যায়ের আলোচিত্র ছাড়াও রয়েছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন শিল্পীর আঁকা শিল্পকর্ম।

এ ছাড়া মুক্তিসংগ্রামের নানা পর্যায়ের দেশ ও বিদেশ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্র।

বঙ্গবন্ধুকে যে কফিনে করে ঢাকা থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে নিয়ে আসা হয়েছিল, সেটিও সংরক্ষণ করা হয়েছে সযত্নে। দর্শনার্থীরা এখানে এসে আবেগে আপ্লুত হন। শ্রদ্ধা জানান বঙ্গবন্ধুকে।

সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স শুধু নয়, এর আশপাশের এলাকায় আরও অনেক কিছুই দেখার রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর আদি পৈতৃক বাড়ি, ছেলেবেলার খেলার মাঠ, বঙ্গবন্ধুর প্রিয় বালিশা আমগাছ, শেখ বাড়ি জামে মসজিদ (স্থাপিত হয়েছে ১৮৫৪ সালে) ইত্যাদি। আছে হিজলতলা ঘাট, যেখানে বঙ্গবন্ধু ছোটবেলায় গোসল করতেন। দেখা মিলবে শেখ পরিবারের ঐতিহ্যবাহী একটি বড় ও একটি ছোট আকারের পুকুরের।