• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.

যাত্রার মেয়ে থেকে যেভাবে ‍‍`বেদের মেয়ে জোসনা‍‍` খ্যাত নায়িকা হন অঞ্জু ঘোষ


বিনোদন ডেস্ক | বাংলাবাজার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১, ০১:৩৫ পিএম যাত্রার মেয়ে থেকে যেভাবে ‍‍`বেদের মেয়ে জোসনা‍‍` খ্যাত নায়িকা হন অঞ্জু ঘোষ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নায়িকা অঞ্জু ঘোষ। যিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মোট ছয়টি ভাষার ৩০০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

এর মধ্যে বাংলাদেশি সিনেমা ‘বেদের মেয়ে জোসনা’র জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত ১৯৮৯ সালের এই সিনেমায় তিনি তখনকার সুপারহিট নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনয় করেন।

কিন্তু দুই বাংলার এই নামকরা নায়িকার অতীত ইতিহাস সম্পর্কে হয়তো অনেকেরই অজানা। তিনি খুবই সাধারণ ঘর থেকে চলচ্চিত্রের মতো এত বড় একটি প্ল্যাটফর্মে এসেছিলেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। পেটের দায়ে একসময় যাত্রায় নাচতেন অঞ্জু ঘোষ। গানও গাইতেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভোলানাথ অপেরা নামে একটি যাত্রাদলের হয়ে কাজ করতেন।

সেখান থেকেই অঞ্জু ঘোষ তখনকার পরিচালক এফ কবীর চৌধুরীর চোখে পড়েন। এরপর ১৯৮২ সালে কবীরের ‘সওদাগর’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে অঞ্জুর। এই ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়েছিল। অঞ্জু ‘বাংলার নীলো’ নামে পরিচিত পেয়েছিলেন। ১৯৮৬ সালে তার ক্যারিয়ার বিপর্যয়ের মুখে পড়লেও তিনি ফিরে আসেন ভালোভাবে। ১৯৮৭ সালে তার অভিনীত সর্বাধিক ১৪টি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়।

১৯৮৯ সালে অঞ্জু ঘোষ অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ অবিশ্বাস্য রকমের ব্যবসা করে এবং সৃষ্টি করে নতুন রেকর্ড। সে সময়ই ২০ কোটি টাকা আয় করেছিল সিনেমাটি। যে রেকর্ড আজও কোনো সিনেমা ভাঙতে পারেনি। চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। আজও সিনেমাপ্রেমীরা তাকে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’র নায়িকা হিসেবেই বেশি চেনেন।

এদিকে একসময় যেহেতু যাত্রায় কাজ করতেন, সে কারণে গানেও বেশ পটু ছিলেন অঞ্জু ঘোষ। ১৯৯০ সালে তার গাওয়া ১২টি গান নিয়ে ‘মালিক ছাড়া চিঠি’ নামের একটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। কিন্তু ১৯৯৬ সালে হঠাৎই তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে কলকাতায় চলে যান। সেখানকার চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে থাকেন।

বাংলাদেশে সর্বশেষ অঞ্জু ঘোষকে দেখা গেছে ২০১৮ সালে সাইদুর রহমান সাইদ পরিচালিত ‘মধুর ক্যান্টিন’ নামে একটি ছবিতে। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে কেন তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে কলকাতায় চলে গিয়েছিলেন, সেই কারণ এখনো জানা যায়নি। ২০১৮ সালে তিনি যখন ‘মধুন ক্যান্টিন’-এর কাজ করতে বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন সাংবাদিকরা তাকে এই প্রশ্নটি করেছিল। কিন্তু কোনো সদুত্তর দেননি বেদের মেয়ে জোসনা।

কলকাতায় যাওয়ার বহু বছর পর ২০১৯ সালের ৫ জুন তিনি ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপিতে যোগ দেন। এতে তার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে। পরে বিজেপির তরফ থেকে দাবি করা হয়, তিনি ভারতের নাগরিক, তার কাছে ভারতের পাসপোর্ট আছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ ২০০৩ সালে কলকাতা পৌরসংস্থা কর্তৃক জারি করা অঞ্জুর জন্ম সার্টিফিকেটও প্রকাশ করেন। প্রশংসাপত্র অনুসারে এই অভিনেত্রী ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬৬ সালে কলকাতার ইস্ট অ্যান্ড নার্সিং হোমে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সুধন্য ঘোষ ও মায়ের নাম বীণাপানি ঘোষ।

অন্যদিকে ২০১৮ সালে একুশে টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার অঞ্জু ঘোষ জানিয়েছিলেন, তিনি ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ সালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন ও মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রামে চলে যান। সেখানকার কৃষ্ণকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি পড়াশোনা করেন। এই বিতর্কের মাঝেই বহু বছর ধরে তিনি কলকাতাতেই বসবাস করছেন।