• ঢাকা
  • রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.

এবার সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে প্রবন্ধ চুরির অভিযোগ


ঢাবি প্রতিনিধি | বাংলাবাজার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১, ১১:৪০ এএম এবার সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে প্রবন্ধ চুরির অভিযোগ
ড. সাদেকা হালিম | ছবি: সংগৃহীত

একের পর এক বিব্রতকর কান্ডে জড়িয়ে পত্র-পত্রিকার শিরনাম হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।এতে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি।

দেশ-কিংবা বিদেশেও নানান প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন এই বিদ্যাপিঠের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ক্ষুন্ন হচ্ছে শিক্ষকদের সুনাম ও সুখ্যাতি।

স্বয়ং মানুষ গড়ার কারিগড়রা এমন কাজে জড়ানোর ফলে এই বিশাল প্রতিষ্ঠান তার সুনাম হারাচ্ছে দিনদিন।

দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কয়েকজন শিক্ষককে গণমাধ্যম থেকে শুরু করে স্ব স্ব অবস্থানে আলোচিত এবং আলোকিত মনে করা হয় অথবা যারা নিজেদের আলোকিত মানুষ হিসেবেই সমাজের চোখে উপস্থাপিত হতে পছন্দ করেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম।

অথচ সম্প্রতি শুদ্ধতার প্রতীক হিসাবে নিজেকে উপস্থাপন করা এবং অন্যের গবেষণা চুরির বিষয়ে সরব ভূমিকা পালন করা এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে উঠেছে অন্যের গবেষণা চুরির অভিযোগ। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম নারী ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে চারটি গবেষণা পত্রে চুরির সুনিদিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।২০১২ সালে ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব এগরিকালচার সার্ভিস (আইএসএসএন নম্বর: ১৮১৭,৩০৪৭) এ প্রকাশিত মো. কাউসার আহমেদ, ড. সাদেকা হালিম এবং শামিমা সুলতানার সম্মিলিত একটি গবেষণা প্রকাশ পায়। প্রকাশিত গবেষণাটির বিষয়বস্তু ছিল ''Participation of Women in Aquaculture in Three Costal Districts of Bangladesh: Approaches Towards Sustainable Livelihood''।ওই গবেষণা পত্রে ৬৪ শতাংশ তথ্য ও লেখা হুবহু মিল পাওয়া গেছে অন্যান্য গবেষণাপত্র এবং বিভিন্ন বই থেকে। 

এছাড়া ড. সাদেকা হালিম  মোস্তফা আসিফের ''Neither Sustenance Nor Securitz: Women and Forestrz in Bangladesh bz Sadeka Halim Phd'' পিএইচডি গবেষণার সুপারভাইজার ছিলেন। এই পিএইচডি গবেষণাপত্রটি ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর জমা দেওয়া হয়। ৮ হাজার ৫১ শব্দের এই গবেষণা পত্রটির নম্বর: ১২৩৮৮০১২৭৫। উল্লেখিত গবেষণাটিতেও ২৬ শতাংশ তথ্য ও উপাত্ত অন্যান্য গবেষণা ও বই থেকে হুবহু তুলে ধরা হয়।এছাড়াও ভারতের নয়াদিল্লি থেকে ২০১১ সালে SAGE BOOKS থেকে প্রকাশিত ''Minorities and the State : Changing Social and Political Landscape of Bengal: Status of Hindu Women :Spheres of Human Rights Violation in Bangladesh'' শীর্ষক গবেষণাধর্মী নিবন্ধে কন্ট্রিবিউটর হিসাবে কাজ করেছেন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। এই প্রকাশনাটিতে সম্পাদনা করেছেন অভিজিৎ দাসগুপ্ত, মাসিকিও তংওয়া এবং আবুল বারাকাত।কিন্তু সাদেকা হালিম এই নিবন্ধটিতেও ৪৪ শতাংশ তথ্য ও উপাত্ত হুবহু কপি করেছেন বলে জানা যায়।

এদিকে গত ২৮ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সভায় গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির শাস্তি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিয়া রহমানের পদাবনমন শাস্তি দেওয়া হয়। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এই শিক্ষককে সহযোগী অধ্যাপক থেকে এক ধাপ নামিয়ে সহকারী অধ্যাপক করে দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।

আলোচিত সেই গবেষণা প্রবন্ধে তার সহকর্মী অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানও শাস্তি পাচ্ছেন। তাকে শিক্ষা ছুটি শেষে চাকরিতে যোগদানের পর দুই বছর একই পদে থাকতে হবে।

উল্লেখ্য,আন্তজার্তিকভাবে স্বীকৃত কোনো গবেষণাপত্রে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ হুবহু মিল রাখার সুযোগ থাকলেও সেগুলোর মূল তথ্য ও উপাত্তের উৎস উল্লেখ করার নিয়ম রয়েছে। এর বেশি হলেই সেটি প্লেজারিজমের আওতায় অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। অধ্যাপক সাদেকা হালিমের তিনটি গবেষণাতেই ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে কথা বলতে একাধিকার মুঠোফোনে কল দিলেও রিসিভ করেননি অধ্যাপক সাদেকা হালিম। 

অভিযোগের ব্যাপারে বাংলাবাজার এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান এর সঙ্গে। তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো আমি অবগত নই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কি ব্যবস্থা নেবেন জিজ্ঞেস করা হলে উপাচার্য বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সবার জন্যই সমান ব্যবস্থা।'

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি থেকে দ্বিতীয়বার স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

এরপর তিনি কমনওয়েলথ স্টাফ ফেলোশিপ নিয়ে পোস্ট-ডক্টরেট সম্পন্ন করেন যুক্তরাজ্যের বাথ ইউনিভার্সিটি থেকে। ২০০৯ সালের জুলাই মাস থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত তথ্য কমিশনে প্রথম নারী তথ্য কমিশনার পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এছাড়া ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি তিন মেয়াদে শিক্ষক সমিতির কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও তিনবার সিনেট সদস্য ছিলেন।