• ঢাকা
  • রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.

খুবিতে পদপ্রার্থীদের ঘুম হারাম, নিজস্ব ভিসি চান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা


খুবি প্রতিনিধি | বাংলাবাজার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১, ১২:৩০ পিএম খুবিতে পদপ্রার্থীদের ঘুম হারাম, নিজস্ব ভিসি চান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
ছবি : সংগৃহীত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামানের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২৯ ই জানুয়ারি। বর্তমানে এ শুন্য পদটিতে রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোসাম্মত হোসনে আরা। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ লোভনীয় পদে যাওয়ার জন্য ইতিমধ্যে ব্যাপক লবিং ও রাজনৈতিক তদবির শুরু করে দিয়েছেন অনেক পদপ্রত্যাশী শিক্ষক। কেউ ছুটছেন মন্ত্রীদের নিকট আবার অনেকেই সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুবির একাধিক শিক্ষক ও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ ককয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক এই পদে যাওয়ার আলোচনায় রয়েছেন। 

তাদের মধ্যে খুবির শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন, আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিনের  অধ্যাপক ড. অনির্বাণ মোস্তফা যিনি সাংবাদিক গোলাম মোস্তফার ছেলে, ইংরেজি ডিসিপ্লিনের সাবেক  প্রধান, কলা ও মানবিক স্কুলের প্রাক্তন ডিন, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক এম আহসানুজ্জামান ও কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুবারের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহীনুর রহমান অন্যতম।

এছাড়াও  উপাচার্য পদের অন্যতম দাবিদার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান  প্রথম নারী উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা। যিনি যৌন নিপিড়ন প্রতিরোধ সেলের পরিচালক, অপরাজিতা ছাত্রী হলের প্রভোস্ট হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। 

এছাড়াও আইন স্কুলের ডিন ও প্রধান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের খন্ডকালীন সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ওয়ালিউল হাসানাত এবং অ্যাগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক এবং শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মো. সারওয়ার জাহানের নাম ও শোনা যাচ্ছে।তিনি এক সময় খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ হলের প্রভোস্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। 
তবে সবার মধ্যে সদ্য প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বাগেরহাট-৪ সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন উপাচার্য হওয়ার আলোচনায় এগিয়ে  রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে,বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য চান।কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবু শামীম মোহাম্মদ আরিফ বাংলাবাজারকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা, সুশাসনসহ সামগ্রিক বিষয়গুলোর উন্নয়ন নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ম্ফূর্ত অংশগ্রহণ, শিক্ষকদের জ্ঞান, পাঠদানে সক্ষমতা, গবেষণায় দক্ষতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টা, প্রশাসনের সহযোগিতা ও সমর্থন এবং সর্বোপরি একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশের ওপর। 

আর এসবের ওপর থাকবে গতিশীল যোগ্য নেতৃত্ব। উপাচার্য যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বক্ষণিক প্রধান একাডেমিক ও প্রশাসনিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপাচার্যকে যেহেতু একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব দুটোই পালন করতে হয়, তাই উপাচার্যকে হতে হবে একাধারে শিক্ষা ও গবেষণায় দক্ষ এবং প্রশাসন পরিচালনায় চৌকস। সম্ভাব্য এই গুণাবলি অর্জিত হয় দীর্ঘদিন সাফল্যের সঙ্গে পাঠদান, নিজের গবেষণা, গবেষণায় অন্যকে সহযোগিতা, গবেষণায় নেতৃত্ব প্রদান, ডিসিপ্লিন বা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন, স্কুল বা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন, সিন্ডিকেট ও সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করাসহ অন্যান্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। 

একজন উপাচার্যকে অবশ্যই এসব দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হতে হবে।  অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যিনি উপাচার্য হিসেবে আসেন তাকে নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পরিবেশে নতুন মানুষজন নিয়ে চলতে হয়। একেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ একেক রকম এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংস্কৃতিও তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। তার মধ্যে আবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কিছু রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিদ্যমান। সবকিছু মিলিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা নতুন উপাচার্যকে নতুন কাজের পরিবেশসহ নতুন একাডেমিক স্টাফ এবং প্রশাসনিক স্টাফদের সঙ্গে মিলে চলতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। 

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইদানীং একটা নতুন সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যেখানে নতুন উপাচার্য যোগদানের পর থেকে উপাচার্যকে ঘিরে একটা বলয় তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হয় বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে। নতুন পরিবেশে কাজের সুবিধার জন্য উপাচার্য যে কোনো একটা গ্রুপকে কাছে টেনে নেন।  অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপাচার্য এই বৃত্ত বা বলয় থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারেন না এবং এই বৃত্তই মাঝে মধ্যে নিজেদের স্বার্থে উপাচার্যকে চালিত করে। 

অনেকে মনে করেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য থেকে কাউকে নিয়োগ দিলে এই জাতীয় সমস্যা অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব; কারণ তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে ভালোভাবে চেনেন এবং জানেন। অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গভীর সংকট বা সমস্যাকালে জোড়াতালি ও দায়সারা গোছের সমাধান দেন বা দিতে চেষ্টা করেন এবং কোনোভাবে উপাচার্য হিসেবে মেয়াদ শেষ করার চেষ্টা করেন।