• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.

হোটেলে তরুণীকে খু.নের পর স্ত্রীর কথা মনে করে কাঁদছেন যুবক


বাংলাবাজার ডেস্ক | বাংলাবাজার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১, ০৮:২২ পিএম হোটেলে তরুণীকে খু.নের পর স্ত্রীর কথা মনে করে কাঁদছেন যুবক

‘একটা ভুল আমার জীবনটা শেষ করে দিলো। আমার স্ত্রী আমাকে খুব ভালোবাসে। আমাদের সুখের সংসার। কিন্তু মাথায় কী একটা ভুত চেপেছিল যে, মধ্যরাতে বাসায় না গিয়ে ফার্মগেট থেকে যৌনকর্মীকে নিয়ে হোটেলে গেলাম। 

এরপর কিভাবে কি হয়ে গেলে বিশ্বাসই করতে পারছি না’- ডিবি কার্যালয়ে বসে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীতে ভাসমান এক যৌনকর্মী তরুণীকে হত্যার দায়ে আটক মো. খোকন ভুঁইয়া (২৮) নামের এক যুবক।

ফার্মগেট থেকে এক ভাসমান যৌনকর্মীকে নিয়ে শ্যামলীর একটি হোটেলে গিয়েছিলেন খোকন। ৩ হাজার টাকায় চুক্তি হয়েছিল ওই যৌনকর্মীর সঙ্গে। ভোরের দিকে চুক্তির বাইরে আরও টাকা দাবি করেন ওই যৌনকর্মী। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়। এক পর্যায়ে সেই যৌনকর্মীর হাত ও মুখ বেঁধে পালিয়ে যায় সে। পরে সকালে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর নিজের মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপন করেন খোকন। তার ধারণা ছিল, কোনোভাবেই তাকে শনাক্ত করতে পারবে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে শেষ পর্যন্ত রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
 
সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহাদত হোসেন সুমা তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাজধানীর শ্যামলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ৮ সেপ্টেম্বর এক নারীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের স্বামী। একপর্যায়ে হত্যায় জড়িত খোকনকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকান্ডটি একটি ক্লু-লেস ঘটনা ছিল। কারণ হোটেল রেজিস্ট্রারেও অভিযুক্ত তরুণ নিজের অসম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগের নাম্বার দিয়েছিল। কিন্তু প্রযুক্তির সহায়তায় একটি বিশেষ সূত্রের মাধ্যমে খুনিকে শনাক্ত করা হয়। পরে হোটেলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর রবিবার সন্ধ্যায় ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা এলাকা থেকে খোকন নামে ওই তরুণকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারের পর খোকন জানায়, তার বাবার নাম আব্দুল বারেক ভুঁইয়া। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনার কৃষ্ণপুরে। দীর্ঘ দিন প্রবাসে ছিল সে। দেশে ফিরে দুই বছর আগে বিয়ে হয়। স্ত্রীকে নিয়ে বাড্ডার লিংক রোড এলাকায় থাকতো সে। ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ক্যাফে হুইলস-এ কারিগর হিসেবে কাজ করতো খোকন।

খোকন জানায়, মধ্যরাতে ফার্মগেটে ওভারব্রিজের ওপর তার সঙ্গে দেখা হয় ভাসমান ওই যৌনকর্মীর। তিন হাজার টাকায় এক রাতের জন্য চুক্তি হয়। পরে ওই যৌনকর্মী তাকে নিয়ে যায় শ্যামলীর দুই নম্বর সড়কের হোটেল রাজ ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে। জিজ্ঞাসাবাদে খোকন বলেন, হোটেলে ঢোকার আগেই ওই যৌনকর্মী তার কাছ থেকে চুক্তির তিন হাজার টাকা নিয়ে নেয়। পরে ভোরের দিকে ওই যৌনকর্মী তাকে ব্ল্যাকমেইল করে। অতিক্তির বিশ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে লোকজনের মাধ্যমে সম্মানহানির ভয় দেখায়। এতে সম্মান বাঁচাতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়েটির গলা টিপে ধরে খোকন। আরেক হাত দিয়ে মেয়েটির দুই হাত বাঁধে খাটের সঙ্গে। চিৎকার করায় তরুণীর ওড়না দিয়ে তার মুখ বেঁধে রাখে। তারপর হোটেল কক্ষের দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায় সে।

খোকনের দাবি, তার ধারণা ছিল, হোটেল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর হোটেলকর্মীরা মেয়েটিকে উদ্ধার করবে। সে কল্পনাও করেনি মেয়েটি মারা যাবে। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর সে মেয়েটির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে পারে। গ্রেফতারের পর থেকেই মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ের কান্নাকাটি করছিল খোকন। পরিবারের কাছে নিজের সম্মান বাঁচাতে একটি ভুল করে ফেলেছে বলে অনুশোচনা করছিলেন। বারবার নিজের স্ত্রীর প্রশংসাও করছিল সে। বলছিল, তার স্ত্রী তাকে খুব ভালোবাসে। তাদের সুখের সংসার। কিন্তু মাথায় কী একটা ভুত চেপেছিল যে, মধ্যরাতে বাসায় না গিয়ে ফার্মগেট থেকে যৌনকর্মীকে নিয়ে হোটেলে যায়। এরপর কিভাবে কি হয়ে গেলে বিশ্বাসই করতে পারছে না সে।

গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ভাসমান যৌনকর্মীদের কেউ কেউ খদ্দের সঙ্গে সময় কাটাবার পর অতিরিক্ত অর্থের জন্য ব্ল্যাকমেইল করে থাকে। বিভিন্ন সময়ে এরকম অভিযোগও তারা পেয়েছেন। তাই বলে কোনওভাবেই আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়া যাবে না।