• ঢাকা
  • রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.

মির্জাগঞ্জে ১৪ টি সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে,পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীন চিত্র


মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি | বাংলাবাজার প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২১, ০৭:০৫ পিএম মির্জাগঞ্জে ১৪ টি সড়কের উন্নয়ন কাজ  চলছে,পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীন চিত্র
ছবি: বাংলাবাজার

শহরের আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে গ্রাম। শহরের সুবিধা পৌঁছে যাচ্ছে গ্রামেও। বদলে গেছে গ্রামীণ জীবন। গ্রামের রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন হলে শহরের সকল সুবিধা পাওয়া যায় গ্রামে গ্রামে মাটির ঘর এখন আর চোখে পড়ে না।এমনকি কাঠের টিনের ঘরও হারিয়ে যেতে বসেছে।

অধিকাংশ গ্রামেই দেখা মেলে পাঁকা বা আধাঁপাকা বাড়ি। সরকারের  দ্বায়িত্বে উন্নয়নের সুফল প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে আর ক্রমশ বদলে যাচ্ছে সবকিছু। ভূমিহীন-গৃহহীনরা সরকারের দেয়া বিনা পয়সায় ঘর পাচ্ছে। সরকার গৃহীত নানা প্রকল্পের কারণেই গ্রামীণ অর্থনীতিতে পরিবর্তন এসেছে। ফলে বর্তমানে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার ১৪টি সড়কের কাজ চলছে। 

আরো কয়েকটি সড়ক,বিদ্যালয় ভবন, চারতলা উপজেলা পরিষদ ভবন,৫০০ শয্যা অডিটরিয়াম কাজ শেষ পর্যায়ে। উপজেলা পরিষদের মধ্যে সড়কগুলো নতুনরুপে দেখা যাকে কয়েকদিন পরেই। এতে উপজেলার চিত্র পাল্টে যাবে। শহরের তুলনায় গ্রামের উন্নয়ন হয়না বললেই চলে। আমরা যারা পিছিয়ে পড়া মানুষ গ্রামে বাস করি, যোগাযোগ ব্যবস্থা গ্রামীণ উন্নয়নে যতটুকু উন্নয়ন করে তা একমাত্র এলজিইডিই করে থাকে। 

এলজিইডি’র প্রশংসা না করে পারা যায় না’-এ কথাগুলো বলছিলেন উপজেলার একাধিক বয়োবৃদ্ধরা। শুধু তাদের কথা নয়, গ্রামে বাস করা অনেক মানুষের প্রায় একই কথা। তাঁর মধ্যে 
উপজেলা পরিষদের একবার ভাইস চেয়ারম্যান ও দুইবারে উপজেলা চেয়ারম্যান খান মো. আবু বকর সিদ্দিকীর অবদানের কারনে এ সরকারের সময়ে মির্জাগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে বলে উপজেলার মানুষজন মনে করেন। গ্রামাঞ্চলের অনেক রাস্তাঘাটের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। 

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জীবিকা ও উন্নত জীবন ব্যবস্থা তথা মানবসম্পদ উন্নয়নসহ গ্রামীন অবকাঠামোর আমুল পরিবর্তনে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি)সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামের মো. ফারুক হোসেন বলেন, এলাকার উন্নয়ন তথা রাস্তাঘাটের জন্য মানুষের নানা ধরনের কাজ বেড়েছে। এতে আয়ও বেড়েছে। নানা ধরনের আয়বর্ধক কাজে জড়িত হয়ে সবাই এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল। 

এলাকা সূত্রে গেছে, রাস্তা ভাল হওয়ায় এলাকার ছেলেমেয়ে সহজে স্কুলে যেতে পারে। যারা অন্যের জমিতে কাজ করতেন তাদের অনেকেই ছোটখাটো ব্যবসা বা বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ করছেন।

কেউ কেউ অটোরিক্সা বা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালিয়েও জীবিকা নির্বাহ করছেন। উপজেলা এলজিইডি’র দপ্তর সুত্রে জানা যায়, টেকসই গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাস্তবায়িত এসব সড়ক সারা বছরের জন্য চলাচলের উপযোগী করে রাখার জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করে যাচ্ছে উপজেলা এলজিইডি বিভাগ। ফলে চাঙ্গা থাকে গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক সকল কর্মকান্ড, সাশ্রয় হয় অর্থের, আর মানুষ পায় নিরাপদ ও শান্তিময় পথ চলার আনন্দ। নদ-নদী ও খালের উপর ব্রীজ / কালভার্ট নির্মাণ করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি বিভাগ জনজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মেচন করেছে। 

সৃষ্টি করছে অবাধ ও নিরবিচ্ছিন্ন সড়ক নেটওয়ার্ক। নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এলজিইডি নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

উপজেলা প্রকৌশলী শেখ আজিম-উর রশিদ জানান,চলতি অর্থবছরে মির্জাগঞ্জ উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। 

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৪টি সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। আরো কিছু নতুন কাজ শেষের পথে। এটি বাস্তবায়ন হলে উপজেলা কিংবা গ্রামের চেহারা পাল্টে যাবে। তিনি জানান, এ সরকারের সময়ে মির্জাগঞ্জে এলজিইডি গ্রামীণ অবকাঠামো, নগর ও ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। 

টেকসই ও সময়োপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রামীণ জনপদে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জীবিকা এবং উন্নত জীবন ব্যবস্থা তথা মানব সম্পদ উন্নয়নে এ অর্থ ব্যয় করা হয়। পল্লী সড়ক উন্নয়ন বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকার প্রাপ্ত প্রকল্প। 

পুরুষদের পাশাপাশি স্বাবলম্বী এখন গ্রমের নারীও। স্বল্পসুদে বা বিনাসুদে ঋণ নিয়ে পুরুষদের পাশাপাশি নানা ধরনের আয়বর্ধক কাজে জড়িত হচ্ছে নারীরা। এতে সংসারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন হচ্ছে তেমনিভাবে পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি।