• ঢাকা
  • শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.

বাসেই সন্তান জন্ম দিলেন এক নারী


নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১, ০১:১৩ পিএম বাসেই সন্তান জন্ম দিলেন এক নারী

‘মা’ কথাটি খুব ছোট অথচ ঐ শব্দই পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম শব্দ; মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও স্নেহের সাথে অন্য কোন সম্পর্কের তুলনা চলে না। মা হচ্ছেন একজন নারী, যিনি গর্ভধারণ, সন্তানের জন্ম তথা সন্তানকে বড় করে তোলেন তার সর্বস্ব দিয়ে। তিনি পৃথিবীর এমন একজন ব্যক্তি, যিনি ‘জীবন যেখানে যেমন’ নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন ঠিক তেমন ভাবেই। এবার অন্তঃসত্ত্বা এক নারী বাসেই সন্তান জন্ম দিয়ে আবারও তা প্রমাণ করলেন। কক্সবাজারগামী রিলাক্স পরিবহনের একটি বাসে সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সন্তান প্রসব করেছেন ত্রিশোর্ধ্ব এক নারী।

জানা গেছে, ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাচ্ছিল রিলাক্স পরিবহনে একটি বাস। গাড়িতে থাকা অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর লেবার পেইন উঠলে যাত্রীদের সহযোগিতায় গাড়ি পটিয়া উপজেলা জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় গাড়িতেই প্রসব করানো হয়। অন্তঃসত্ত্বা এই নারীর বাড়ি ময়মনসিংহে। ঢাকার নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা স্বামীর সঙ্গে থাকতেন তিনি। স্বামী পেশায় রিকশাচালক। সোমবার এই নারী ঢাকা থেকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাপের বাড়ি যাচ্ছিলেন।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক রাজীব দে বলেন, রাতে একটি গাড়িতে এক নারীর লেবার পেইন উঠলে কয়েকজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে খবর দেয়৷ হাসপাতালের দায়িত্বরত মিডওয়াইফরা গাড়িতে উঠে দেখে রোগীর অবস্থা তেমন একটা ভালো নয়। এ অবস্থায় হাসপাতালে আনাও সম্ভব না। তাই গাড়িতেই বাচ্চা প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়। পরে মা ও নবজাতককে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে মা ও শিশু সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এ চিকিৎসক।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. সব্যসাচী নাথ বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক ও মিডওয়াইফদের সহযোগিতায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর প্রসব সম্পন্ন হয়। গভীর রাতেও এমন পরিস্থিতিতে ছুটে গিয়ে সহযোগিতা করার স্বীকৃতি স্বরূপ হাসপাতালের পক্ষ থেকে সামান্য উপহারের ব্যবস্থা করেছি। তিনি বলেন, এই মা ও শিশুকে বাঁচানোর পেছনে সবার সহযোগিতা ছিল। শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নয়, গাড়িতে থাকা চালক, যাত্রীরাও ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।