• ঢাকা
  • শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.

কোচিং ফি পরিশোধ করতে না পারায় ফরম ফিলাপ করতে দিল না প্রধান শিক্ষক


নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১, ১২:০৪ পিএম কোচিং ফি পরিশোধ করতে না পারায় ফরম ফিলাপ করতে দিল না প্রধান শিক্ষক

সাভারের আশুলিয়ায় করোনা কালীন সময়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও এক অসাধু চক্র স্কুল বন্ধ রাখলেও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রতিমাসে ১৫০০ টাকা আদায় করত কোচিং ফী টাকা না দিতে পারায় অনেক শিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপ করেননি কবি নজরুল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক স্বপন চন্দ্রধর। 

রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সাভারের আশুলিয়ার কান্দাইলে অবস্থিত কবি নজরুল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী আখি আক্তারের কাছে ফরম ফিলাপের টাকা অধিক মাত্রাই দাবি করায় আর সেই নির্ধারিত টাকা পরিশোধ না করতে পারায় (২০২১ সালের) এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারবে না এমনি অভিযোগ উঠেছে এই স্কুলের বিরুদ্ধে।

জানা যায়,গত ১৫ তারিখে, কবি নজরুল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল স্বপন চন্দ্রধর আখি আক্তারের বাবা আমজাদ মোল্লা কে মোবাইল ফোনে জানায়,আখির ফর্মফিলাপের জন্য ৩০ হাজার টাকা লাগবে।অসহায় আমজাদ মোল্লা তার গ্রামের বাড়ি থেকে এক এনজিওর মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা কিস্তিতে নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে রশিদের মাধ্যমে টাকা জমা দেয়। কিন্তু ঠিক তার ২ দিন পর সেই প্রিন্সিপাল স্বপন চন্দ্র আবারো মোবাইল করে বলে আপনার আখি এই বছর পরীক্ষা দিতে পারবে না।আগামী বছরের ২২ সালে পরীক্ষা দিতে পারবে।

শিক্ষার্থী আখি আক্তার বলেন,আমি কবি নজরুল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। করোনা কালীন সময়ে আমার বাবা-মার চাকরী যাওয়ার কারণে স্কুলের কোচিং ও বেতন ৩০ হাজার টাকা আসছে বলে জানান আমার প্রধান শিক্ষক স্বপন চন্দ্রধর।কিন্তু এই নির্ধারিত টাকা না দিলে আমার ফর্মফিলাপ হবে না।পরে আমার বাবা গ্রাম থেকে কিস্তির উপরে ২০ হাজার টাকা নিয়ে রসিদ বহীর মাধ্যমে আমার প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেয়।পরবর্তীতে আরো ১০ হাজার টাকা দাবি করলে আমার বাবা আস্তে আস্তে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেই।একপর্যায়ে আমরা যখন জানতে পারি ফর্মফিলাপের সময় শেষ হয়ে আসছে।কিন্তু আমার প্রধান শিক্ষক টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। ৩টা বছর ধরে আমার বাবা খুব কষ্ট আমায় পড়াশোনা করাচ্ছে।তবে একটা বছর পিছিয়ে গেলে আমার লাইফ টাই শেষ হয়ে যাবে।

শিক্ষার্থীর বাবা গার্মেন্টস শ্রমিক আমজাদ মোল্লা বলেন,আমার ২ টা মেয়ে ১০ বছর যাবত ঐস্কুলেই লেখা পড়া করাচ্ছি। শুধু করোনার জন্য আমার এবং আমার স্ত্রীর চাকরী চলে যায়।আমার মেয়ের অনেক টাকা বেতন ধরেছে কোচিং ১৫০০ টাকা এবং প্রাইভেট ১৫০০ টাকা ও বেতন ১০০ টাকা ধরেছে স্কুল বন্ধ থাকার পরেও। আমি এই টাকা দিতে পারি নাই বলেছি স্যার আমি স্কুলে পাঠাতে পারবো না আমি শুধু পরীক্ষা দেওয়াবো।আমার চাকরী নাই তাই বেতন দিতে পারবো না আপনি শুধু আমার মেয়ের পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। আর যখন স্কুল খুলবে তখন আমার মেয়েকে স্কুলে পাঠাবো।

তার পরেও আমি প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ১ হাজার করে টাকা দিছি।ঐ স্যার শুধু এসে বলতো আপনার মেয়ের স্কুলের বেতন দেয়া লাগবে, স্যারদের বেতন দেয়া লাগবে।টাকা দেওয়ার পরেও আমার মেয়ে লাস্টে এসে সকলে এসাইনমেন্ট জমা দেয় কিন্তু আমার মেয়ে কোনো কাগজপত্র দেই না। ঐ স্যার বলতেছে ৩০ হাজার টাকার নিচে হবে না।আমি গ্রাম থেকে কিস্তির উপরে টাকা নিয়ে এসে ২০ হাজার টাকা দেয় কিন্তু সেই স্যার বলছে আপনার মেয়ে ২০২১ সালে পরীক্ষা দিতে পারবে না ২০২২ সালে পরীক্ষা দিতে পারবে। আমার মেয়ে যদি এবার পরীক্ষা না দিতে পারে তাহলে কী করবো ৩ বছর ধরে খুব কষ্ট করে লেখা পড়া করিয়েছি। এখন আমার মেয়ের পরীক্ষার দেওয়ার বিষয়ে কথা বললে উল্টো আমাকে এখন আরো হুমকী ধামকী দিচ্ছেন সেই স্যার।আমি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি আমার মেয়ের যেনো পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেই।

এ বিষয়ে কবি নজরুল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপালের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে,তিনি উল্টো সাংবাদিককে প্রশ্ন করে বলেন,সরকার নির্ধারিত ফী যেমন ক্যান্টমেন্ট বোর্ড স্কুলে যে বাচ্চা গুলো পড়ে এবং আমার ২ টা বোন সেখানে চাকরী করে তারা মাসিক বেতন দেই ব্যাংকের মাধ্যমে তাহলে তারা কেনো নেন। তবে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন।কিন্তু গত১৫ তারিখে বেতন বহীর রসিদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বাবা আমজাদ মোল্লা ২০ হাজার টাকা জমা করেন। সাভার উপজেলা শিক্ষা অফিসার তাবশিরা ইসলাম লিজার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কলটি রিসিভ করেনি।