• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮
Bangla Bazaar
Bongosoft Ltd.

অর্থ পাচারকারীদের তালিকা প্রকাশের দাবি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের


ঢাবি প্রতিনিধি | বাংলাবাজার প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২১, ০৫:৩১ পিএম অর্থ পাচারকারীদের তালিকা প্রকাশের দাবি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের
ছবি : বাংলাবাজার

কানাডার বেগমপাড়াসহ বিদেশে অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের নামের তালিকা দ্রুত প্রকাশের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। 

আজ বুধবার (৯ জুন) দুপুর ১২ টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটি। এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেন তারা। 

মানববন্ধনে বিদেশে পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের নামের তালিকা দ্রুত প্রকাশের দাবি জানিয়ে সংগঠনটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, " বিদেশে অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজরা দেশ ও জাতির শত্রু। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচার সম্পূর্ণভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড। আমরা কখনোই এসব দুর্নীতিবাজদের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড মেনে নিবো না।"

ভাস্করশিল্পী রাশা বলেন, "লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে দুর্নীতিবাজদের কোন ঠাঁই হবে না। এদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কানাডার বেগমপাড়াসহ বিদেশে অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজরা এখন নব্য রাজাকারে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, "কারা অর্থ পাচার করে, সেই তালিকা আমার কাছে নেই। নামগুলো যদি আপনারা জানেন যে এঁরা এঁরা অর্থ পাচার করেন, আমাদের দিন।" অর্থমন্ত্রীর এধরনের দায়িত্বহীন বক্তব্য আমাদেরকে হতাশ করেছে।"

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন বলেন, "সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে নাটোরের সাংসদ শিমুলের বিরুদ্ধে কানাডায় বাড়ি কেনার অভিযোগ ওঠেছে। কিছুদিন আগে সংসদ সদস্য পদ হারানো পাপুলের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠেছে। পিকে হাওলাদারসহ অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারসহ দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। কিন্তু কানাডার বেগমপাড়ায় যারা অর্থ পাচার করে বাড়ি কিনেছে, তাদের নাম এখনোও পর্যন্ত জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়নি যা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই গত নভেম্বরে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, "বাংলাদেশ থেকে কানাডায় টাকা পাচারের যে গুঞ্জন আছে, তার কিছুটা সত্যতা আমরা পেয়েছি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী টাকা পাচারের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের সংখ্যাই বেশি। টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া ২৮টি ঘটনার মধ্যে সরকারি কর্মচারীই বেশি। প্রাথমিকভাবে কিছু সত্যতা পেয়েছি। মনে করেছিলাম রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেশি হবে। কিন্তু দেখা গেল, রাজনীতিবিদ চারজন। সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া কিছু ব্যবসায়ী আছেন।" সুতরাং পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী সেই ২৮ জন বিদেশে অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের নামের তালিকা জাতির সামনে অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।"

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের সঞ্চালনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যদের মতো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন স্বাধীন, সহ-সভাপতি রোমান হোসাইন, শাহীন মাতবর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি আরিফুর রহমান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুদসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।